শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগী করার দারুন কিছু কৌশল

বেবিনিউজ২৪.কম::
শিশুদের পড়াশোনায় মন বসাতে বাবা-মাকে কতোই কাঠখড় পোড়াতে হয়। অথচ লেখাপড়া তো করতেই হবে। তাই বেশিরভাগ সময়ই নানা ধরনের ভয়-ভীতির কৌশল কিংবা বেত আর স্কেল নিয়ে বসে থাকতে হয় মায়েদের। অভিভাবকদের এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে বিশেষজ্ঞরাও গবেষণা করে দারুন কিছু কৌশল বের করে এনেছেন। বাচ্চাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে আপাতত নিচের কয়েকটি পস্থা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন অভিজ্ঞরা।

পড়াশোনাটাকে আনন্দময় করে তোলা :-
সব সময় শিশুরা আনন্দ চায়। পড়াশোনাটাও যদি তেমন আনন্দময় হয়ে ওঠে তবে তা করতে আগ্রহী হবে আপনার সন্তান। এ কাজটি করার সময় আপনার আচরণই আসল ভূমিকা পালন করে। লেখাপড়া মজাদারভাবে উপস্থাপন করুন। দেখনেব শিশুটি মজা করার আদলে পড়ার কাজটিও সেরে নেবে।

ভাল ও সঠিক উপায় বেছে নিন :-
বেশিরভাগ সময় বাচ্চারা মনে করে, লেখাপড়া অন্যান্য ব্যস্ত কাজের মতোই একটি কষ্টকর কাজ। তারা তো বুঝবে না যে, তাদের বড় হয়ে বড় কিছু হতে হলে পড়তে হবে। তাই আপনিও যদি শিক্ষা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে লেকচার শুরু করেন, তবে তারা একে আরো বিরক্তিকর মনে করবে। তাদের জিজ্ঞাসা করুন, তাদের কী করতে ভালো লাগে? কিংবা নিজেও লক্ষ্য করুন তারা মনোযোগ দিয়ে অথবা আনন্দের সাথে কি কি করছে। সেই ভালো লাগার সঙ্গে লেখাপড়াকে যোগ করে বোঝানোর চেষ্টা করুন। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে বোঝালেই শিশুরা বোঝে নেবে।

পছন্দনীয় খবার বা পুরস্কারের লোভ দেখানো :-
পড়ার জন্য ছোটদের পছন্দের খবার বা নানাভাবে পুরস্কৃত করুন। ঠিকমতো পড়লে আইসক্রিমা কিংবা চকলেট কি মন্দ হয়? অথবা একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পড়লে ৫ মিনিট খেলার সুযোগ। আর এসবের লোভে ঝটপট পড়ার কাজটা সেরে নিবে বাচ্চারা। এছাড়াও শিশুটি যা পছন্দ করে দ্রুত পড়া শেষ করলে তা দেয়ার লোভ দেখাতে পারেন।

সঠিক সময় নির্ধারণ করে নেয়া :-
প্রতিদিনের নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করে নিন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতি রাতে হোম ওয়ার্কের জন্য ১ ঘণ্টা যথেষ্ট সময়। শিশুকেও বলুন, তার পড়ার কাজটি অসীম সময় পর্যন্ত নয়। ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে বলুন, এটা বেজে ওঠার আগ পর্যন্ত তাদের পড়তে হবে, তার বেশি নয়। তবে স্কুলের সময় অনুযায়ি বুদ্ধি খাটিয়ে ওই সময়টা নির্ধারণ করা বঞ্ছনীয়।

ভাল কাজে বেশি বেশি প্রশংসা করুন :-
ছোট বা বড় যে কাজই করুক না কেনো, তার সব কাজের প্রর্শসা করুন, শিশুটিকে উৎসাহ দিন। শিশুরা প্রশংসা বা উৎসাহ পেতে দারুণ ভালোবাসে। কাজেই পড়াশোনার কারণে যদি এ প্রশংসা পাওয়া যায়, তবে তা করতে পিছপা হয় না তারা। তবে কখনো মন খারাপ করার মতো কিছু করবেন না বা বলবেন না।

সাথে বসে নিজেও পড়ুন :-
শিশুদের পড়াতে গেলে দেখা যায়, তাদের পড়ে পড়ে পড়াতে হচ্ছে। তা না করে, নিজে বরং অন্যকিছু অর্থাৎ ভাল ভাল ও প্রয়োজনীয় বিষয় নির্ধারন করে ধর্মীয় বা সামাজিক বিষয়ের বই পড়ুন। আপনার পড়া দেখে শিশুটিও তার পড়া পড়তে উৎসাহ বোধ করবে। আর তার নিজের পড়াটা নিজের করাই উত্তম।

Adsworld300px-250px

Facebook