ঈদ আনন্দে মাতি

নিউজডেস্ক::
বাড়ির ছোট শিশুটির মুখে হাসি না ফুটলে ঈদের আনন্দ হয়! আর নতুন একটা পোশাক পেলে তার ঈদের খুশি তো বেড়ে যাবেই। তাই তাদের পোশাকে রংঢং ও নকশার বৈচিত্র্যও কম যাচ্ছে না। এবার ঈদ যেহেতু গরমে তাই শিশুদের আরামটাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন ডিজাইনাররা।
ড্রেসিডেলের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার বলেন, ‘শিশুরা অনেক সময় বড়দের মতো পোশাক পরতে চায়। তাই ঈদ সংগ্রহে সেই কথাটা মাথায় রাখার চেষ্টা করেছি। মা অথবা বোনের মতো করে আনারকলি, টিউনিক বা লেগিংস দিয়ে টপ পরতে চাইলে শিশুরা সেটা পেয়ে যাবে। তবে সবার আগে গুরুত্ব পেয়েছে তাদের আরামের বিষয়টা। পোশাকের কাটেও নানা ধরনের নিরীক্ষা হয়েছে। আনারকলি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে পাতলা জর্জেট কাপড়। তার ওপরে খুব ভারী না, কিছুটা হালকা কাজ দিয়েই নজর কাড়ার চেষ্টা চলেছে।’

শিশুদের পছন্দের নানা মোটিফই থাকছে পোশাক
ছেলেশিশুদের জন্যও বড়দের মতো একই ধরনের পাঞ্জাবির নকশা দেখা যাবে। সুতি ছাড়াও সিল্ক বা সুতি ও সিল্কের মিশ্রণে তৈরি হয়েছে এসব পাঞ্জাবি। ফলে বেশ জমকালো আমেজ পাওয়া যাবে। রাতে কোনো দাওয়াতে গেলেও এই পাঞ্জাবিতে ফিটফাট দেখাবে খোকাবাবুকে। দিনের বেলার জন্য কিনতে পারেন সুতি কাপড়ে তৈরি ফতুয়া। হাফ হাতা বা হাতাকাটা এসব ফতুয়াতেও নানা ধরনের নকশা করেছেন ডিজাইনাররা।

.
ফ্যাশন হাউস দেশালের ডিজাইনার ইশরাত জাহান বলেন, নানা ধরনের মোটিফ ও পকেট দেওয়া পোশাক শিশুরা খুব পছন্দ করে। তাই শিশুদের পোশাকে তাদের পছন্দের নকশাই দেখা যাবে ঈদে। পোশাকে নানা ধরনের পশুপাখির মোটিফ, জনপ্রিয় ছড়ার লাইন শিশুদের আকর্ষণ করে। এসব থাকছে পোশাকের ওপরে প্রিন্টের নকশায়। এ ছাড়া মেয়েশিশুদের জন্য টু-পিস, থ্রি-পিস, স্ট্রেট কাট প্যান্ট, নতুন নকশার ধুতরা প্যান্ট, ঘাগরার সঙ্গে কুর্তাসহ নানা নকশার পোশাকের দেখা মিলবে। ফুল, প্রজাপতি, পাখি ইত্যাদি শিশুকে সহজেই আকর্ষণ করে বলেই সেসব দিয়ে সাজানো হয়েছে ঈদ সংগ্রহ।

নকশা না হয় বোঝা গেল, কিন্তু রং! সেখানেও ডিজাইনাররা ভেবেছেন শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়ে। মিষ্টি আর তুলতুলে নরম ভাবটাই যেন পোশাকে ফুটে ওঠে সেই চেষ্টা করা হয়েছে। যেমন হলুদ রংটাকে ভাবা হচ্ছে ডিমের কুসুম বা গাঁদাফুলের মতো করে। লাল, গোলাপি, নীল বা সাদা যেটাই হোক একটা সতেজ ও কোমল ভাব থাকবে পোশাকে।

শিশুদের সুতি পোশাকের মধ্যে নানা ধরনের সুতার কাজ, এমব্রয়ডারি, প্যাচওয়ার্ক ছাড়াও কারচুপির কাজ থাকছে। সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে এবার পাল্লা দিচ্ছে ফ্রক বা স্কার্ট। তবে বর্ষার দিন বলে বাচ্চাদের শাড়ি না পরানোর পরামর্শ দিচ্ছেন ডিজাইনাররা। খাটো হাতার পাশাপাশি থাকছে হাতা কাটা ফ্রক বা ফতুয়া। পাঞ্জাবিতে একরং, চেক, নানা ধরনের প্রিন্ট ও বুকের কাছে অল্প কাজের দেখা মিলবে। মেয়েদের ফ্রকের সঙ্গে নানা ধরনের প্যান্টও থাকছে। পালাজ্জো বা ঢোলা পায়জামা এবারও থাকছে। ধুতরা প্যান্টও ভালো দেখাবে মেয়েদের। এটি বেশ ঢিলেঢালা। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে স্যান্ডেল বা জুতা বেছে নিতে পারেন। তবে বেশি উঁচু হিলের জুতা পরাবেন না।

দরদাম
শিশুদের ফ্রকের দাম পড়বে ২৫০ থেকে ১০০০ টাকা, টু-পিস বা থ্রি-পিস হলে দাম বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাঞ্জাবি কিনতে পারবেন ৫০০ থেকে ৪০০০ টাকায়। হাফ প্যান্টের দাম ৬০০ টাকার মধ্যে আর ফুল প্যান্ট হলে বাড়াতে হবে আরও ১০০০ পর্যন্ত। পায়জামা আলাদা কিনতে চাইলে ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা লাগতে পারে।

যেখানে পাবেন
মায়াসীর, ড্রেসিডেল, দেশাল, যাত্রা, আড়ং, কে ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, ক্যাটস আই, লা রিভ, মেনজ ক্লাব, জয়িতা, কারুপল্লী, টেক্সমার্টসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউসে। এ ছাড়া বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক, রাপা প্লাজা, প্রিন্স বাজার, পিংক সিটি, এলিফ্যান্ট রোড, নিউ মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, মালিবাগ, উত্তরা, গুলিস্তান, মিরপুর, ধানমন্ডি, লালমাটিয়া, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে।

Adsworld300px-250px

Facebook